মরুভূমির খাবার বলতে আমরা সাধারণত মিষ্টি ডেজার্ট বুঝি। তবে, আসল মরুভূমিতে বসবাসকারী মানুষদের খাবার সম্পূর্ণ আলাদা। এই আর্টিকেলে আমরা দুটি বিষয়ই জানব। প্রথমে জানব মরুভূমির মানুষেরা কী খান। তারপর জানব জনপ্রিয় ডেজার্ট রেসিপি।
অতএব, শুরু করা যাক আমাদের সুস্বাদু যাত্রা। এই লেখায় পাবেন সহজ রেসিপি এবং দারুণ টিপস।
মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী খাবার
মানসাফ (Mansaf)
মানসাফ (Mansaf) হলো জর্ডানের জাতীয় খাবার, যা মূলত ভেড়ার মাংস এবং চাল দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী পদ, যা ‘জামিদ’ (Jameed) নামক শুকিয়ে রাখা টক দইয়ের সস দিয়ে রান্না করা হয় এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বেদুঈন খাবার, যা আতিথেয়তা ও উদযাপনের প্রতীক। এটি একটি বড় থালায় রুটির উপর চাল ও মাংস সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় এবং বাদাম ও পার্সলে দিয়ে সাজানো হয়।
মূল উপাদান:
- মাংস: ভেড়ার মাংস, যা নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করা হয়।
- জামিদ (Jameed): লবণ দিয়ে শুকানো এবং সংরক্ষণ করা টক দই, যা ব্লেন্ড করে একটি ক্রিমি সস তৈরি করা হয়।
- চাল: সাধারণত শর্ট-গ্রেন চাল ব্যবহার করা হয়, যা ভেড়ার স্টক দিয়ে রান্না করা হয়।
- রুটি: ‘শ্রাক’ (Shrak) বা ‘লাভাজ’ (Lavage) রুটি ব্যবহার করা হয়, যা সস শুষে নেয়।
- সাজানোর উপকরণ: ভাজা বাদাম (যেমন পাইন নাট বা আমন্ড) এবং কাটা পার্সলে।
পরিবেশন পদ্ধতি:
- একটি বড় থালায় রুটি বিছানো হয় এবং তার উপর চাল ও মাংস রাখা হয়।
- উপরে জ্যামিদ সস ঢেলে দেওয়া হয় এবং ভাজা বাদাম ও পার্সলে দিয়ে সাজানো হয়।
- ঐতিহ্যগতভাবে এটি হাত দিয়ে খাওয়া হয়, যা সম্প্রদায়ের বন্ধন দৃঢ় করে।
- মানসাফ শুধুমাত্র একটি খাবার নয়, এটি জর্ডানের সংস্কৃতি, আতিথেয়তা এবং সামাজিক রীতিনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাজিন: মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী স্ট্যু খাবার
তাজিন উত্তর আফ্রিকার মরুভূমি অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার যা বিশেষ ধরনের মাটির পাত্রে রান্না করা হয়। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া এবং লিবিয়ার বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে এই খাবারটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তাজিনের বিশেষত্ব
তাজিন পাত্রটি নিচের দিকে চ্যাপ্টা এবং উপরের ঢাকনা শঙ্কু আকৃতির হয়। এই ডিজাইনের কারণে রান্নার সময় বাষ্প উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে আবার খাবারে ফিরে আসে। ফলে মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে কম পানি দিয়েই রান্না সম্পন্ন হয়, যা সেখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি।
প্রধান উপকরণ
ঐতিহ্যগতভাবে তাজিনে ব্যবহৃত মাংস:
- ভেড়ার মাংস (সবচেয়ে প্রচলিত)
- ছাগলের মাংস
- উটের মাংস (মরুভূমি অঞ্চলে)
- মুরগির মাংস (আধুনিক সংস্করণে)
সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় গাজর, আলু, টমেটো, পেঁয়াজ এবং মৌসুমি সবজি। মশলায় থাকে জিরা, ধনে, হলুদ, আদা এবং জাফরান।
পুষ্টিগুণ
একটি মাঝারি পরিবেশনে (২৫০ গ্রাম) থাকে:
- প্রোটিন: ২৫-৩০ গ্রাম
- ফাইবার: ৫-৭ গ্রাম
- ক্যালরি: ৩৫০-৪৫০ কিলোক্যালরি
ধীর আঁচে রান্নার কারণে মাংসের প্রোটিন নরম হয়ে সহজপাচ্য হয় এবং সবজির পুষ্টিগুণ সংরক্ষিত থাকে।
রান্নার প্রক্রিয়া
তাজিন রান্নায় সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে মাংস ও পেঁয়াজ সামান্য তেলে ভাজা হয়, তারপর মশলা ও সবজি যোগ করা হয়। কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না হতে থাকে যতক্ষণ না মাংস সম্পূর্ণ নরম হয়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
তাজিনের স্লো কুকিং পদ্ধতি স্বাস্থ্যকর কারণ এতে কম তেল লাগে এবং খাবারের প্রাকৃতিক স্বাদ ও পুষ্টি অটুট থাকে। উচ্চ প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ এই খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা মরুভূমির কঠিন জীবনযাত্রার জন্য আদর্শ।
বর্তমানে তাজিন শুধু মরুভূমি অঞ্চলেই নয়, সারা বিশ্বের রেস্তোরাঁয় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার অনন্য স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতির কারণে।
মরুভূমিতে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়?
মরুভূমিতে খাবারের সংকট থাকে সবসময়। তাই, মানুষ স্থানীয় উপাদান ব্যবহার করে খাবার তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, খেজুর মরুভূমির প্রধান খাবার।
এছাড়াও, তারা রুটি, দই এবং মাংস খায়। বিশেষত, উটের মাংস খুবই জনপ্রিয়। কারণ, উট মরুভূমিতে সহজে পালন করা যায়।
মাকলুবা: মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী উল্টানো খাবার
মাকলুবা (Maqluba বা Maqlooba) একটি ঐতিহ্যবাহী মধ্যপ্রাচ্যের খাবার যার নাম আরবি “মাকলুব” (مقلوبة) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ “উল্টানো” বা “উপর-নিচ”। এই খাবারটি প্যালেস্টাইন, জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননের জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত এবং মরুভূমির বেদুইন সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রস্তুতি পদ্ধতি এবং উপাদান
মাকলুবা প্রস্তুত করার জন্য একটি বড় পাত্রে স্তরে স্তরে উপাদান সাজানো হয়। সবচেয়ে নিচে থাকে ভাজা সবজি (সাধারণত বেগুন, ফুলকপি, আলু, বা টমেটো), মাঝখানে থাকে মাংস (মুরগি, ভেড়া বা গরুর মাংস), এবং সবার উপরে থাকে বাসমতি চাল। রান্নার পর পুরো পাত্রটি একটি বড় পরিবেশন থালায় উল্টিয়ে দেওয়া হয়, যা এই খাবারের স্বতন্ত্র বৈশিশ্ট্য।
মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয় জিরা, হলুদ, দারুচিনি, এলাচ এবং কালো গোলমরিচ। চালে সুগন্ধ আনতে গরম মশলা এবং জাফরান যোগ করা হয়, যা খাবারে সোনালি রঙ এবং অনন্য স্বাদ প্রদান করে।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
মাকলুবা কমপক্ষে ১৩শ শতাব্দী থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রান্না করা হচ্ছে। এটি পারিবারিক উৎসব, বিশেষ অনুষ্ঠান এবং শুক্রবারের দুপুরের খাবার হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়। মরুভূমির বেদুইন সম্প্রদায়ের কাছে এই খাবার অতিথি আপ্যায়নের প্রতীক এবং সামাজিক সংহতির প্রকাশ।
পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা
মাকলুবা একটি সুষম খাবার যাতে কার্বোহাইড্রেট (চাল), প্রোটিন (মাংস), এবং ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ (সবজি) রয়েছে। প্রতি পরিবেশনে প্রায় ৪৫০-৫৫০ ক্যালরি থাকে, যা বয়স এবং মাংসের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে এটি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী এবং প্রদাহবিরোধী গুণসম্পন্ন হয়।
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য
বিভিন্ন অঞ্চলে মাকলুবার প্রস্তুতি পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা যায়। প্যালেস্টাইনে বেগুন বেশি ব্যবহার করা হয়, যেখানে জর্ডানে ফুলকপি এবং আলু প্রধান। কিছু অঞ্চলে শুকনো ফল এবং বাদাম যোগ করা হয় অতিরিক্ত সুগন্ধ এবং পুষ্টির জন্য।
মাকলুবা শুধু একটি খাবার নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রন্ধনশিল্পের এক জীবন্ত উদাহরণ।
যাযাবরদের খাবার: ভ্রাম্যমাণ জীবনযাত্রার খাদ্য সংস্কৃতি
যাযাবর বা nomadic জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস তাদের ভ্রাম্যমাণ জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই সম্প্রদায়গুলো সহজে বহনযোগ্য, দীর্ঘস্থায়ী এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেয় যা তাদের কঠোর জীবনযাত্রার জন্য উপযুক্ত।
প্রধান খাদ্য উপাদান
পশুজাত দ্রব্য: যাযাবর পশুপালকরা দুগ্ধজাত পণ্যের উপর অত্যধিক নির্ভরশীল। মঙ্গোলিয়ান যাযাবররা ঘোড়া, ভেড়া এবং ইয়াকের দুধ থেকে আইরাগ (fermented mare’s milk) এবং আরুল (শুকনো দই) তৈরি করে। এই খাবারগুলো প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং প্রোবায়োটিকের চমৎকার উৎস।
শুকনো মাংস: বেদুইন এবং তুয়ারেগ যাযাবররা jerky বা শুকনো মাংস ব্যবহার করে, যা মাসব্যাপী সংরক্ষণ করা যায়। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে এবং ওজনে হালকা হওয়ায় বহন সুবিধাজনক।
শস্য ও শুকনো খাবার: বার্লি, গম এবং বাজরার মতো শস্য যাযাবরদের প্রধান কার্বোহাইড্রেট উৎস। মধ্য এশিয়ার যাযাবররা তালকান (roasted barley flour) ব্যবহার করে, যা পানির সাথে মিশিয়ে তাৎক্ষণিক খাবার হিসেবে খাওয়া যায়।
পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য
যাযাবরদের খাদ্যতালিকা উচ্চ-ক্যালরি এবং পুষ্টিঘনত্বসম্পন্ন হয়। Fermented foods তাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং ভিটামিন B12, K2 সরবরাহ করে। মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্য থেকে প্রাপ্ত চর্বি তাদের ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি যোগায়।
আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা
যাযাবর খাদ্য সংস্কৃতি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার উদাহরণ। তারা খাদ্য সংরক্ষণের প্রাচীন কৌশল যেমন fermentation, drying এবং smoking ব্যবহার করে, যা আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ।
বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতি: মরুভূমির পুষ্টি ও আতিথেয়তা
বেদুইন সম্প্রদায়ের খাদ্য সংস্কৃতি তাদের যাযাবর জীবনধারা এবং মরুভূমির কঠোর পরিবেশের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। আরব উপদ্বীপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলে বসবাসরত এই পশুপালক সম্প্রদায় শতাব্দী ধরে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে একটি টেকসই এবং পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
মূল খাদ্য উপাদান
বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকার মূল ভিত্তি ছিল ছাগল, ভেড়া এবং উটের পালন, যা মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং পশম সরবরাহ করত।দুগ্ধজাত পণ্য তাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার প্রধান অংশ। ছাগলের তাজা দুধ, যাকে তারা “হালিব” বলে, প্রতিদিন সংগ্রহ করা হয় এবং চিনি ও শীহ (এক ধরনের মরু উদ্ভিদ) মিশিয়ে উপভোগ করা হয়। দুধ থেকে তৈরি করা হয় “জামিদ” নামক শুকনো দই, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
খেজুর বেদুইন খাদ্য সংস্কৃতির আরেকটি অপরিহার্য উপাদান। ইসলামী ঐতিহ্যে খেজুর গাছকে মানবতার জন্য জীবিকার উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং বেদুইনদের জন্য এটি ছিল জীবনের একটি মূল উৎস।
রান্নার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি
বেদুইন রান্নার সবচেয়ে বিখ্যাত পদ্ধতি হল “যারব” বা মান্দি। এই পদ্ধতিতে মাটিতে একটি গর্ত খনন করে গরম কয়লার উপর খাবার রান্না করা হয়, সাধারণত ভেড়া বা মুরগি, আলু, সবজি এবং মশলা একসাথে স্তরে স্তরে সাজিয়ে বালিতে ঢেকে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে খাবার কোমল এবং সুস্বাদু হয় এবং এটি বেদুইনদের যাযাবর ঐতিহ্যের সাথে সংযুক্ত।
রুটি বেদুইন খাবারের ভিত্তি। শুধুমাত্র পিষ্ট গম এবং পানি ব্যবহার করে তৈরি এই রুটি “সাজ” নামক বেকিং পাত্রে অথবা “তাবুন” নামক মাটির চুল্লিতে রান্না করা হয়। “লাজাগিয়েহ” হল অতি পাতলা রুটি, যা সাজে বেক করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী খাবার
মাগলুবা একটি ঐতিহ্যবাহী বেদুইন খাবার যা ভাত এবং মাংস, মুরগি অথবা সবজি দিয়ে তৈরি করা হয়। “উল্টো” অর্থ বহনকারী এই খাবারটি একটি হাঁড়িতে প্রস্তুত করা হয় এবং প্লেটে উল্টিয়ে পরিবেশন করা হয়।
আতিথেয়তার সংস্কৃতি
বেদুইন গৃহে খাবার গ্রহণ করা মানে শুধু আতিথেয়তা নয়, বরং গৃহকর্তার সুরক্ষা গ্রহণ করা। এমনকি খাবার খাওয়ার তিন দিন পর্যন্ত অতিথি সেই পরিবারের সুরক্ষায় থাকেন। কফি এবং চা পরিবেশন বেদুইন আতিথেয়তার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা সম্প্রদায়ের বন্ধন এবং সামাজিক মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে।
বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী খাবার
বেদুইনরা মরুভূমির যাযাবর জাতি। তারা সাধারণ খাবার খেতে পছন্দ করে। উদাহরণস্বরূপ, ফ্ল্যাটব্রেড তাদের প্রিয় খাবার।বেদুইনদের ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যাটব্রেড, যা “শরাক” বা “তাবুন ব্রেড” নামে পরিচিত, মরুভূমির যাযাবর জীবনযাত্রার একটি প্রাচীন খাদ্য ঐতিহ্য। এই পাতলা, নরম রুটি গমের আটা, পানি এবং সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি করা হয়। বেদুইনরা ঐতিহাসিকভাবে গরম পাথর বা বালির উপর এটি সেঁকে থাকেন। পুষ্টিগতভাবে এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি অঞ্চলে এই রুটি মাংস, দই এবং সবজির সাথে পরিবেশন করা হয়। আরব সংস্কৃতিতে আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে শরাক ব্রেড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সময়ে জর্ডান, সৌদি আরব এবং সিরিয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী খাবার এখনও জনপ্রিয়। রন্ধন প্রক্রিয়া সহজ হলেও এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অপরিসীম।
তদুপরি, তারা লাবান বানায়। এটি এক ধরনের দই। এই দই দিয়ে তারা অনেক খাবার রান্না করে।
অন্যদিকে, রাতের খাবারে তারা ভেড়া বা ছাগল রান্না করে। সাথে থাকে ভাত বা বার্লি।
বেদুইনদের তথ্যসূত্র আরও পড়ুন:
– Arab Culture and Heritage
– Traditional Middle Eastern Cuisine
– UNESCO Intangible Cultural Heritage
জনপ্রিয় ডেজার্ট আইটেম
খেজুরের হালুয়া (Date-Halwa)
খেজুরের হালুয়া অসাধারণ একটি ডেজার্ট। বিশেষ করে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে খুব জনপ্রিয়। তাই, আমরা এর সহজ রেসিপি জানব।
উপকরণ:
- খেজুর: ২০০ গ্রাম
- দুধ: ১ কাপ
- মাখন: ২ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়া: ১ চা চামচ
তৈরির পদ্ধতি:
প্রথমত, খেজুর ভিজিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর, বীজ ফেলে দিয়ে খেজুর কেটে নিন।
এরপর, একটি প্যানে মাখন গরম করুন। তারপর খেজুর দিয়ে নাড়ুন ৫ মিনিট।
এবার, দুধ ঢেলে দিন আস্তে আস্তে। তারপর রান্না করুন মিশ্রণ ঘন হওয়া পর্যন্ত।
সবশেষে, এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে নামিয়ে ফেলুন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
Health Tip: প্রাকৃতিক খেজুরের মধুর শক্তি দেহকে শক্তি দেয়, হজম সহজ করে।
👉 আরও হালুয়া রেসিপি পেতে ভিজিট করুন: https://runnarhut.com
বাকলাভা (Baklava): ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি
বাকলাভা হলো মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্কের একটি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, যা তার পাতলা পেস্ট্রি স্তর, বাদাম, মধু ও সিরাপের মিশ্রণে তৈরি হয়। এই মিষ্টি শুধু স্বাদেই নয়, দেখতে ও ঘ্রাণেও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ (Ingredients)
- ফিলো পেস্ট্রি – ২০টি শিট
- গলানো মাখন – ১ কাপ
- কুচানো আখরোট বা পিস্তাচিও – ২ কাপ
- চিনি – ১ কাপ
- দারচিনি গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- মধু – ½ কাপ
- লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
- পানি – ½ কাপ
রান্নার ধাপ (Cooking Steps)
প্রথমে পেস্ট্রি স্তর তৈরি:একটি বেকিং ট্রেতে ফিলো পেস্ট্রির একাধিক স্তর বিছিয়ে প্রতিটি স্তরের উপরে গলানো মাখন ব্রাশ করুন।
এরপর বাদাম মিশ্রণ: কুচানো বাদাম, দারচিনি ও চিনি মিশিয়ে মাঝের স্তরে ছড়িয়ে দিন। এরপর আবার ফিলো পেস্ট্রি স্তর দিন।
এরপর বেক করা:ওভেন ১৮০° সেলসিয়াসে প্রি-হিট করে ৩০–৩৫ মিনিট বেক করুন, যতক্ষণ না উপরের দিকটা সোনালি বাদামী হয়।
সবশেষে সিরাপ তৈরি: একটি পাত্রে পানি, চিনি, মধু ও লেবুর রস ফুটিয়ে হালকা ঘন সিরাপ তৈরি করুন এবং ঠান্ডা বাকলাভার উপর ঢেলে দিন।
বিশেষত্ব (Specialty)
বাকলাভা তার স্তরযুক্ত মিষ্টি গঠন, মধুর সুবাস ও বাদামের ক্রাঞ্চি স্বাদে অনন্য। এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে দারুণ জনপ্রিয়।
Health Tip: বাদাম ও মধুতে রয়েছে ভালো ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যে উপকারী।
বাসবুসা(Basbousa): মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত ডেজার্ট
বাসবুসা একটি সুজির কেক। তবে, এটি সিরাপে ভেজানো থাকে। ফলে, এটি খুবই মিষ্টি এবং নরম।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
- সুজি: ২ কাপ
- চিনি: ১ কাপ
- দই: ১ কাপ
- নারকেল গুঁড়া: আধা কাপ
- বেকিং পাউডার: ১ চা চামচ
সিরাপের জন্য:
- চিনি: ১.৫ কাপ
- পানি: ১ কাপ
- লেবুর রস: ১ চা চামচ
রান্নার ধাপ:
প্রথমে, সব শুকনো উপকরণ মিশিয়ে নিন। তারপর, দই যোগ করে মিশ্রণ তৈরি করুন।
এরপর, একটি গ্রিজড প্যানে ঢেলে দিন। তারপর ওভেনে বেক করুন ১৮০ ডিগ্রিতে ৩০ মিনিট।
অন্যদিকে, সিরাপ তৈরি করুন চিনি-পানি ফুটিয়ে। এরপর লেবুর রস মেশান।
সবশেষে, গরম কেকে ঠান্ডা সিরাপ ঢেলে দিন। ফলে, কেক সিরাপ শুষে নেবে।
Health Tip: সেমোলিনা ও বাদামের সমৃদ্ধ উপাদান হৃদয় ও হাড়ের জন্য ভালো।
কনাফা(Kunafa): খাস্তা ও মিষ্টি
কনাফার বিশেষত্ব
কনাফা একটি পেস্ট্রি ডেজার্ট। বিশেষত, এটি রমজান মাসে জনপ্রিয়। তবে, সারা বছরই এটি পাওয়া যায়।
এটি তৈরি হয় কাটাইফি নামক সূক্ষ্ম নুডলস দিয়ে। এরপর, মাঝে দেওয়া হয় পনির বা ক্রিম।
সুতরাং, এর স্বাদ একদম অনন্য। একসাথে পাবেন খাস্তা এবং নরম টেক্সচার।
সহজ কনাফা রেসিপি
উপকরণ:
- কাটাইফি পেস্ট্রি: ৫০০ গ্রাম
- মোজারেলা চিজ: ২০০ গ্রাম
- মাখন: ১০০ গ্রাম (গলানো)
- পেস্তা বাদাম: কুচি করে নেওয়া
তৈরির প্রক্রিয়া:
প্রথমত, কাটাইফি আলগা করে নিন। তারপর, গলানো মাখন মিশিয়ে নিন ভালোভাবে।
এরপর, একটি বেকিং ট্রেতে অর্ধেক কাটাইফি বিছিয়ে দিন। তারপর চিজ ছড়িয়ে দিন উপরে।
এবার, বাকি কাটাইফি দিয়ে ঢেকে দিন। তারপর চাপ দিয়ে সমান করুন।
সবশেষে, বেক করুন ২০০ ডিগ্রিতে ৩৫ মিনিট। এরপর সিরাপ ঢেলে পরিবেশন করুন।
Health Tip প্রোটিন ও দুগ্ধজাত উপাদান মানসিক শক্তি ও পেশীর জন্য সহায়ক।
পরামর্শ: পরিমাণমতো উপভোগ করুন—সুস্বাদু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে।
স্বাদ ও ঐতিহ্যের মিলন erleben করুন!
মরুভূমির ঐতিহ্যবাহী ডেজার্ট রেসিপি শিখুন এবং ঘরে বসেই বানান এই মিষ্টির স্বাদ। এখনই পড়ুন, তৈরি করুন, এবং আপনার বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করুন!
👉 সম্পূর্ণ রেসিপি ও আরও মজার টিপসের জন্য ভিজিট করুন:Runnar Hut

[…] হতে পারে একদিকে স্বাস্থ্যকর খাবার, (Healthy Food)অন্যদিকে স্বাদের আনন্দ। যদি কম […]