• Skip to main content
  • Skip to primary sidebar

Runnar Hut

Runnar Hut

  • Home
  • About Us
  • Contact Us
ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয়: লেবুর শরবত, ডাবের পানি ও ফলের জুসের উপকারিতা

ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয়: লেবুর শরবত, ডাবের পানি ও ফলের জুসের উপকারিতা

posted on

ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই রোজার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পানীয় শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

তাজা ফলের জুস, বিশেষত আম, তরমুজ বা কমলার রস ভিটামিন সরবরাহ করে। দুধ-কলার শেক প্রোটিন ও পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। খেজুর ভেজানো পানি ইসলামিক ঐতিহ্য অনুসারে আদর্শ পানীয়। বেলের শরবত ঠান্ডা ও পুষ্টিকর। অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর।

বিশেষ করে লেবুর শরবত এবং ডাবের পানি শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে সতেজ করে। পাশাপাশি ইসবগুলের ভুসি মিশ্রিত পানীয় হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। অন্যদিকে তাজা ফলের জুস শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে।

এই প্রবন্ধে আমরা জানব কোন পানীয় পান করা উচিত। একইসাথে এসব পানীয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

হাদিসে ইফতারের নির্দেশনা

হযরত সালমান ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন রোজা ভাঙবে, সে যেন খেজুর দিয়ে ভাঙে। কারণ তাতে বরকত রয়েছে। খেজুর না পেলে, তাহলে পানি দিয়ে ভাঙবে। কেননা তা পবিত্র।” (সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী)

হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) মাগরিবের নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙতেন। তাজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে করতেন। তাও না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় সহজ ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে রোজা ভাঙা সুন্নত।


ইফতারে শরবত কেন জরুরি?

প্রথমত, শরবত দ্রুত শক্তি যোগায়। সারাদিন উপবাস থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। তাই শরবতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

দ্বিতীয়ত, শরবত শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে। দীর্ঘ সময় পানি না পান করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। ফলে শরবত শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখে।

এছাড়া শরবত হজম প্রক্রিয়াকে ধীরে সক্রিয় করে। ফলে ভারী খাবার খাওয়ার আগে শরীর প্রস্তুত হয়।

নবী মুহাম্মদ (সা.) খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। শরবত এই সুন্নতের আধুনিক রূপ। লেবু, বেলের শরবত বিশেষ জনপ্রিয়। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও সতেজতার উৎস।

শরবতের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

গ্রীষ্মকালীন এই জনপ্রিয় পানীয় শুধু তৃষ্ণা মেটায় না। বরং শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শরবত বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হয়। এগুলো স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরবত শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। গরমের দিনে যখন শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়, তখন শরবত দ্রুত শক্তি যোগায়। শরীরকে সতেজ রাখে। লেবু বা কমলার শরবত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বেলের শরবত হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখে। তকমা বা চিয়া সিডের শরবত শরীর ঠান্ডা রাখে। অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা করে।

বিভিন্ন ধরনের শরবতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। খনিজ পদার্থ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। রোহ আফজা বা অন্যান্য ভেষজ শরবত শরীরে শীতলতা আনে। মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমের শরবত ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় চোখের জন্য উপকারী।

তবে শরবত পান করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি ছাড়া বা কম চিনিযুক্ত শরবত বেছে নেওয়া ভালো। বাড়িতে তৈরি প্রাকৃতিক শরবত বাজারের কৃত্রিম রং ও ফ্লেভারযুক্ত শরবতের চেয়ে অধিক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।


লেবুর শরবতের স্বাস্থ্য উপকারিতা

লেবুর শরবত ইফতারে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। এতে প্রচুর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে। লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি রক্ত পরিষ্কার রাখে। শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধেও লেবুর শরবত উপকারী।

একটি মাঝারি আকারের লেবুতে প্রায় ৩০-৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এটি দৈনিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করে। এছাড়া লেবুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস। লেবুতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

নিয়মিত লেবুর শরবত পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া লেবুর শরবত হজম শক্তি বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


ফলের জুসের উপকারিতা

ফলের জুস শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস।ইফতারে ফলের জুস পান করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। রোজা রাখার সময় দীর্ঘ সময় পানি ও পুষ্টি সরবরাহ কমে যায়, তাই ফলের জুস তাড়াতাড়ি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। প্রাকৃতিক চিনি ও ভিটামিনস সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শক্তি বৃদ্ধি করে এবং হজম প্রক্রিয়াও সহজ করে।

বিভিন্ন ফল শরীরকে আলাদা আলাদা পুষ্টি দেয় যেমন: কমলালেবু, পেয়ারা, অ্যানার বা স্ট্রবেরির জুস শরীরকে প্রয়োজনীয় খনিজ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। এছাড়াও, ফলের জুস ইমিউন সিস্টেম মজবুত করতে সাহায্য করে এবং রোজাদারের ক্লান্তি কমায়। প্রতিদিন ইফতারে এক গ্লাস তাজা ফলের জুস খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে গৃহীত হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, আমের জুস ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এবং চোখের জন্য উপকারী। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে।  অন্যদিকে তরমুজের জুস শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে। একইভাবে কমলার জুস ভিটামিন সি সরবরাহ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।এছাড়াও কমলায় ফোলেট, পটাশিয়াম এবং ফাইবার থাকে। এসব উপাদান হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তবে সবসময় তাজা ফলের জুস পান করা ভালো। কারণ প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত চিনি থাকে।


ডাবের পানির অতুলনীয় গুণ

রোজা রাখার সময় শরীর দীর্ঘ সময় পানির অভাবে থাকে। এই সময়ে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে ডাবের পানি একেবারে সেরা পানীয়। ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ, যা শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটি ক্যালরি ও চিনি স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করে, যা রোজাদারের শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক।

ডাবের পানিতে ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রোজাদারের দেহকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। গরম আবহাওয়ায় বা ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা ডাবের পানি শুধু জলের তৃষ্ণা মেটায় না, মন এবং শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে।

সুতরাং, রোজা পালন করার সময় স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক হাইড্রেশন চাহিদা মেটাতে ডাবের পানি অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।


বেশি চিনিযুক্ত পানীয়ের ক্ষতি

রোজা রাখার সময় শরীর দীর্ঘ সময় পানি ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত থাকে। অনেকেই ইফতারে বেশি চিনিযুক্ত পানীয় যেমন সোডা, কোমল পানীয় বা সুগার সাড়ানো জুস খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু এই ধরনের পানীয় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, যা পরে হঠাৎ কমে গেলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়াও, বেশি চিনি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি ও হজমের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। রোজাদারের জন্য সুস্থ ও সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখতে চিনি কম বা ন্যাচারাল সুইটনারযুক্ত পানীয় বেছে নেওয়াই ভালো।

লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা তাজা ফলের জুস শরীরকে প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি সরবরাহ করে, একই সময়ে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণের আইডিয়া জানতে পড়তে পারেন 👉রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ১০টি উপায় | স্বাস্থ্যকর রোজা


ইফতারে পানীয় পানের সঠিক নিয়ম

হঠাৎ করে বেশি পানীয় পান করা উচিত নয়। বরং ধীরে ধীরে পান করা ভালো। প্রথমে খেজুর এবং এক গ্লাস পানি দিয়ে রোজা ভাঙা উচিত। এরপর অন্যান্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে পানি পান করা উচিত। তারপর লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পান করা ভালো।

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় খালি পেটে পান করা ঠিক নয়। কারণ এটি হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানীয় পান করা ভালো।


গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • কৃত্রিম কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন
  • প্রাকৃতিক শরবত বেছে নিন
  • অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করবেন না
  • মধু বা আখের গুড় ব্যবহার করতে পারেন
  • কৃত্রিম কোমল পানীয়ের পরিবর্তে তাজা ফলের রস বেশি স্বাস্থ্যকর
  • খেজুর ও পানির সাথে রোজা ভাঙা সবচেয়ে ভালো

 

উপসংহার

ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় যেমন লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং ডাবের পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং শক্তি বাড়ায়। তাই সবসময় তাজা ও প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে রোজার সময় শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।


Disclaimer

এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Explore

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Primary Sidebar

Categories

  • Superfoods
  • বাংলা রেসিপি
  • বিশেষ উপলক্ষের রান্না
  • ভেগান ও প্ল্যান্ট-বেইজড রান্না
  • মিষ্টি ও ডেজার্ট রেসিপি
  • শিশু ও বয়স্কদের খাবার
  • সহজ ঘরোয়া রেসিপি
  • স্বাস্থ্যকর খাবার রেসিপি

Explore

  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy Policy
  • Disclaimer

Copyright protected by Runnar Hut © 2025