বয়স্ক ব্যক্তিরা অপুষ্টির জন্য বেশি সংবেদনশীল।অনেক বয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন|এজন্য বয়স্ক ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন।তাই বয়স্কদের খাবার: স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা ও ডায়েট চার্ট (Food for the Elderly: Healthy Diet Plan & Meal Chart) এর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। হাড় দুর্বল হওয়া, হজমশক্তি কমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া— সব স্বাভাবিক ব্যাপার। সঠিক খাবার বয়স্কদের শুধু সুস্থই রাখে না, বরং মানসিকভাবে চাঙা রাখে এবং দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করে।
বয়স্কদের খাবার /বয়স্ক ব্যক্তিদের পুষ্টির চাহিদা কি?
meal plan for elderly (বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা )এখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার, যেমন – ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, ডিম ও চর্বিহীন মাংস। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন – দুধ, দই, এবং সবজি খাওয়া উচিত।বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্যালরি কম লাগলেও, তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি, যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফাইবার, ভিটামিন বি১২ এবং পটাশিয়াম থাকতে হবে। Healthy Diet Plan (স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিকল্পনা ) বয়স্ক ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বয়স্কদের পুষ্টির গুরুত্ব
বার্ধক্যে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, হজম ক্ষমতা দুর্বল হয়। একইসাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
এসব কারণে বয়স্কদের খাবার নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হয়। পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। উপরন্তু, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘজীবন লাভে সহায়তা করে।
বয়স বৃদ্ধিতে শারীরিক পরিবর্তন
প্রথমত, হজম প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, হাড় ও জয়েন্টগুলো দুর্বল হতে থাকে। তৃতীয়ত, শরীরে রোগ প্রতিরোধের শক্তি কমে আসে।
এছাড়াও, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। হৃদরোগের সম্ভাবনাও অনেক বৃদ্ধি পায়। সেজন্য খাবারে বিশেষ নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
বয়স্কদের খাবার কেন আলাদা হওয়া দরকার
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে হজম ক্ষমতা দুর্বল হয়।
- হাড় ও জয়েন্ট দুর্বল হয়, তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D প্রয়োজন।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার দরকার।
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাবার গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স্কদের খাবারের প্রয়োজনীয় উপাদান
বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্যালরি চাহিদা কম হলেও পুষ্টির প্রয়োজন বেশি। তাদের খাদ্য তালিকায় বিশেষ কিছু উপাদান রাখা আবশ্যক। এতে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে।
প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম
প্রোটিন পেশী মজবুত রাখতে সাহায়্য করে। মাছ, ডিম, ডাল ও দুধ ভালো প্রোটিনের উৎস। নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া উচিত।ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। দুধ, দই ও পনিরে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এগুলো প্রতিদিনের খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন।
ভিটামিন ও মিনারেল
ভিটামিন ডি হাড় শক্ত করতে সাহায্য করে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। তবে খাবারেও এটি রাখা জরুরি।ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকা
১. শাকসবজি ও ফলমূল
- প্রতিদিন ২–৩ বেলা সবজি খেতে হবে।
- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে।
- কমলা, কলা, আপেল, পেয়ারা, পেঁপে বয়স্কদের জন্য উপকারী।
২. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D এর উৎস।
- প্রতিদিন দুধ, দই বা পনির খাওয়া হাড় মজবুত রাখে।
৩. মাছ ও প্রোটিন
- ইলিশ, রুই, কাতলা, টুনা, স্যামন ইত্যাদি মাছ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ।
- হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
- ডিম ও ডালও ভালো প্রোটিনের উৎস।
৪. পূর্ণ শস্য ও আঁশযুক্ত খাবার
- লাল চাল, গম, ওটস, ডালিয়া হজমে সহায়ক।
- কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
৫. পর্যাপ্ত পানি
- বয়স্করা অনেক সময় পানি কম খান।
- প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ গ্লাস পানি খাওয়া জরুরি।
বয়স্কদের পানি পানের গুরুত্ব
পানি শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক একটি উপাদান। বয়স্করা প্রায়ই পানি পানে অবহেলা করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট গ্লাস পানি পান করুন। পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কিডনি সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।
পানির পাশাপাশি স্যুপ, ডাবের পানি ও ফলের রস পান করা যায়। তবে বাজারের প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলুন। এগুলোতে চিনি অতিরিক্ত থাকে।
বয়স্কদের যেসব খাবার এড়ানো উচিত/৪০ পার হলে যেসব খাবার খাবেন না
একজন মানুষ বার্ধক্যের দিকে এগুতে থাকলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে। কিছু অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এ অবনতির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।বয়স্কদের যেসব খাবার এড়ানো উচিত/বয়স ৪০ পার হলে যা খাওয়া উচিত নয় !
ক্যান স্যুপ :
সম্ভবত আপনি ক্যান স্যুপকে অস্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন না। কিন্তু ক্যান খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে খাওয়া উচিত নয় হট ডগ
হট ডগ :
বয়স ৪০ পার হলে হট ডগ খাবারকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে- সেই সঙ্গে ব্যাকন ও সালামির মতো অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংসকেও।পালিনস্কি-ওয়েড বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত মাংসে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও নাইট্রেট (একটি প্রিজারভেটিভ) থাকে, যা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বারবিকিউড অথবা ফ্রাইড চিকেন :
ফ্রাইড বা বারবিকিউড বা ঝলসানো মাংস ৪০ পার হলে স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো হবে না।
কুকিজ :
কুকিজের চিনি বয়স্কদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে।
স্পোর্টস ড্রিংক :
আপনি সম্ভবত জানেন যে সোডা আপনার শরীরের জন্য ভালো নয়, কিন্তু আপনার ভুল ধারণা থাকতে পারে যে স্পোর্টস ড্রিংক স্বাস্থ্যকর- আসলে তা নয়, স্পোর্টস ড্রিংকে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে।সাইক্লিক অ্যামাইন কেমিক্যালের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কার্সিনোজেনিক হতে পারে।
চিনিমুক্ত স্ন্যাক :
বয়স ৪০ পার হলে চিনি খাওয়া উচিত নয়। আপনি হয়তো ভাবছেন যে এর পরিবর্তে সুগার-ফ্রি বা চিনিমুক্ত লেবেল আঁটা স্ন্যাক খেতে পারবেন। আসলে আপনি যেমনটা ভাবছেন ঠিক তেমনটা নয়।
অ্যালমন্ড মিল্ক :
আপনি মনে করতে পারেন যে দুগ্ধজাত খাবার বর্জন করাতে আপনার স্বাস্থ্যের উপকার হবে, কিন্তু বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবারের ক্যালসিয়াম অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে হাড় শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, কারণ মেনোপজ হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস করে।
হট সস :
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন অ্যাজিং অনুসারে, ‘আপনার মেনোপজ আরম্ভ হলে আপনার মসলাদার খাবার বর্জন করা উচিত।এরিন পালিনস্কি-ওয়েড বলেন, যদি আপনি হট ফ্ল্যাশ অথবা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল রিফ্লাক্সে ভুগেন, তাহলে হট সসের মতো মসলাদার খাবার খাবেন না।
- অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার (উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়)।
- ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার।
- মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনি (ডায়াবেটিসের ঝুঁকি)।
- প্রক্রিয়াজাত খাবার (ক্যান ফুড, ফাস্টফুড ইত্যাদি)।
স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অন্যান্য দিক
শুধু খাবারই নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। মানসিক প্রশান্তিও স্বাস্থ্যের অংশ।
নিয়মিত শারীরিক কসরত
প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট হাঁটুন।যোগব্যায়াম শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখে। স্ট্রেচিং ব্যায়াম জয়েন্ট নমনীয় রাখে। নিয়মিত ব্যায়ামে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম
প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। ভালো ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন।দিনের বেলা বিশ্রাম নিন। অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। ঘুমের আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার কমান।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা
মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। সামাজিক যোগাযোগ মানসিক সুস্থতা বাড়ায়।প্রার্থনা বা ধর্মীয় কাজে মন শান্ত হয়। শখের কাজ করুন। বই পড়া, বাগান করা বা গান শোনা মনকে প্রফুল্ল রাখে।
বয়স্কদের দৈনিক খাবার তালিকা
একটি সুষম খাদ্য তালিকায় (oil free recipes)কম তেলে রান্না বয়স্কদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিচে একটি আদর্শ দৈনিক খাবার পরিকল্পনা দেওয়া হলো। এটি অনুসরণ করলে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে।
সকালের নাশতা
- ওটস + দুধ + কলা
- সেদ্ধ ডিম
অথবা লাল আটার রুটির সাথে সবজি খান। এক কাপ চা বা দুধও ভালো। এতে সারাদিনের জন্য শক্তি পাবেন।
দুপুরের খাবার
দুপুরে পরিমিত পরিমাণ ভাত খান।
- ভাত (লাল চাল অল্প পরিমাণে)
- মাছ বা মুরগির ঝোল কম তেলে রান্না
- ডাল
- শাক ও সবজি
দুপুরে পরিমিত পরিমাণ সালাদ খেলে হজম ভালো হয়। খাবার শেষে এক টুকরো ফল খান।
বিকেলের নাশতা
বিকেলে হালকা নাশতা করুন। মুড়ি, চিড়া বা খই খাওয়া যায়। তবে ভাজাপোড়া থেকে দূরে থাকুন। সবুজ চা পান করতে পারেন।
- দই খুব উপকারী খাবার।
- ফলমূল (পেয়ারা/কমলা) খেতে পারেন।
রাতের খাবার
রাতে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান।
- রুটি বা খিচুড়ি |
- সবজি বা ডাল সাথে রাখুন।
- ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ পান করুন।
- হালকা স্যুপ খান|
রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।এতে ঘুম ভালো হয়।
সময়মতো খাবার খাওয়ার গুরুত্ব
খাবারের সময় নির্দিষ্ট রাখা জরুরি। নিয়মিত সময়ে খেলে হজম ভালো হয়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রাও স্থিতিশীল থাকে।দিনে তিনবার মূল খাবার খান। মাঝে দুবার হালকা নাশতা করুন। রাতে খুব দেরি করে খাবেন না।খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান। তাড়াহুড়ো করে খাওয়া ক্ষতিকর। খাওয়ার সময় টেলিভিশন না দেখাই ভালো।
উপসংহার
সঠিক খাবার ও ( Healthy Lifestyle) হলো বয়স্কদের সুস্থ ,সুন্দর ও সুখী জীবনের জন্য মূল চাবিকাঠি | প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ফল, দুধ, মাছ, প্রোটিন এবং আঁশযুক্ত খাবার রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।
বিস্তারিত রেসিপি ও নতুন আপডেট পেতে ভিজিট করুন: Runnar Hut.

[…] সংস্কৃতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে ভেগান ও প্ল্যান্ট-বেইজড লাইফস্টাইল এর ভবিষ্যৎ আগামী দিনে এটি একটি […]